ওয়ারিশ সম্পদ বন্টনের আইনি নিয়ম ও ফারায়েজ হিসাব (২০২৬ আপডেট)



ওয়ারিশ সম্পদ বন্টনের আইনি নিয়ম ও ফারায়েজ হিসাব (২০২৬ আপডেট)



বাংলাদেশে পরিবারিক  জমি জমা ভাগ বন্টন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ঝামেলা দেখা দেয় সঠিক নিয়ম-কানুন ও আইন না  জানার কারণে ওয়ারিশদের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হয়  | বাংলাদেশে মূলত ব্যক্তির পরিবারের ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর সম্পত্তি বন্টন আইন নির্ভর করে মুসলিম ধর্মের জন্য মুসলিম ফারায়েজ ,  হিন্দু ধর্মের জন্য হিন্দুদের দায়ভাগামত | 

আমাদের এখানকার লেখা হচ্ছে মুসলিম পারিবারিক আইন ও বাংলাদেশে চলমান বিভিন্ন জমিজমা বিষয়ক আইন অনুযায়ী ওয়ারিশি জমি জমা ভাগ বন্টন নিয়ে আলোচনা করা হলো | 

সম্পত্তি বন্টনের আগে সম্পত্তি হইতে করণীয় চারটি কাজ : 

 প্রথমত  স্ত্রীর দেনমোহর পরিষদ করা  : স্ত্রীর দেনমোহর পরিষদ না করা থাকলে তাহা পরিশোধ করা | 

 দ্বিতীয়ত  দাফন কাফনের  খরচ : দাফন কাফনের  খরচ এর টাকা বহন করা | 

 তৃতীয়ত ঋণ  পরিশোধ করা : মৃত ব্যক্তি যদি কোন ঋণ থাকে তাহা পরিশোধ করা | 

 চতুর্থত ওয়াসিয়াত পূরণ করা :   মৃত ব্যক্তি যদি কোন ওয়াসিয়াত করে থাকে তাহা পূরণ করা | 

উক্ত চারটি কাজ করার পরে যে সম্পত্তি থাকবে তাহা ওয়ারিশদের মাঝে ভাগ বন্টন করে দিতে হবে | 

ওয়ারিশগণের মধ্যে জমি জমা  ভাগ বন্টন  : 

মুসলিম ফারায়েজ ও ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন এর মাধ্যমে মুসলিম জমি জমা ভাগ বন্টন হয়ে থাকে

১ ।  নম্বর ওয়ারিশ স্বামী ও স্ত্রী :

 স্বামী স্ত্রীর সম্পত্তিতে সব সময়ই ১ / ৪ একাংশ পায়। তবে নি : সন্তানি দাম্পত্তি হলে ১ / ২  এক অংশ পায়।

স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তিতে সব সময়ই ১ / ৮  একাংশ পায় ।  আবার নি : সন্তানি দাম্পত্তি হলে ১ / ৪  একাংশ পায়।

২ । নম্বর ওয়ারিস মাতা ও পিতা :  মাতা তাহার পুত্র মৃত্যুতে  পুত্রের সম্পত্তি হইতে১ / ৬  এর একাংশ পাইবে  ।

  পিতা  তাহার পুত্র মৃত্যুতে  পুত্রের সম্পত্তি হইতে১ / ৬  এর একাংশ +  অবশিষ্টভোগী হইবে । 

৩ ।  নম্বর ওয়ারিশ ছেলে ও মেয়ে

পুত্র সন্তান সবসময়ই সম্পত্তিতে অবশিষ্টভোগী হয়  এক পুত্র সন্তান থাকলে সমস্ত অবশিষ্ট সম্পত্তি তিনি একাই পাইবেন  । আবার একাধিক পুত্র সন্তান হইলে সকলে সমানভাবে অবশিষ্ট সম্পত্তি ভাগ করে নিবেন  । আবার  পুত্র সন্তান  ও  কন্যা  সন্তান একত্রে অবশিষ্ট সম্পত্তিতে অংশীদার হইলে       ২ : ১ অনুপাতে ভাগ করে নিবে । 

 আবার এক কন্যা সন্তান হলে মোট সম্পত্তির অর্ধেক একাই পাইবে  ,  আবার একাধিক কন্যা সন্তান হলে মোট সম্পত্তির ২ / ৩   অংশ সকল কন্যাগণ  পাইবে এবং সমানভাবে ভাগ করা লইবে ,  তবে যদি অবশিষ্ট সম্পত্তিতে পুত্র ও কন্যা একত্রে অংশীদার হয় এক্ষেত্রে পুত্র কন্যা ২ : ১  অনুপাতে ভাগ করে লইবে । 


ওয়ারিশদের সম্পত্তি বন্টনের   সারসংক্ষেপ

ওয়ারিশদের সাথে সম্পর্ক         সন্তান থাকলে যে অংশ পাবে                 সন্তান না থাকলে যে অংশ পাবে 

স্ত্রী                                      ১ / ৮ একাংশ                                                        ১ / ৪ একাংশ

স্বামী                                    ১ / ৪ একাংশ                                                       ১ / ২  একাংশ

মা                                         ১ / ৬ একাংশ                                                      ১ / ৩  একাংশ

পিতা                                      ১ / ৬ একাংশ                                            ১ / ৬ একাংশ  +  অবশিষ্ট ভুগি

মেয়ে একজন                        ১ / ২  ছেলে না থাকলে                                       ১  / ২

ছেলে ও মেয়ে                       ছেলে :  মেয়ে ২ : ১  অনুপাতে পাইবে


আইনের মাধ্যমে ওয়ারিশি ওয়ারিশি জমি জমা নিজের নামে করা নিয়ম : 

 প্রথমত ওয়ারিশ সনদ :  আপনাকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান বা পৌরসভার মেয়র এর নিকট হইতে স্মারক সম্বলিত   ওয়ারিশ সনদপত্র আনতে হবে । 

 দ্বিতীয়তঃ আপোষ বন্টন দলিল  : সরজমিনে একজন আমিন বা সার্ভেয়ার দিয়ে জমি মেপে হিসাব অনুযায়ী প্রত্যেক অরিসের অংশ ভাগ করে দিতে হবে এবং পূর্ব ভাগ অনুযায়ী সকল ওয়ারিশদের সম্মতিতে আপোষ বন্টন দলিল রেজিস্ট্রি করতে হবে এবং উক্ত আপোষ বন্টন  দলিলে উল্লেখ থাকবে কে কোন খতিয়ানের কোন দাগ  হইতে জমি নিবে তাহা উল্লেখ থাকবে এবং কে কতটুকু জমি নিবে? তাহা  ও  উল্লেখ থাকবে ।  

তৃতীয়ত নামজারি :  পূর্ববর্তী মালিকের নাম হইতে সরকারি রেকর্ডে নিজের নামে আনতে হলে আপনাকে নামজারি করতে হবে নামজারির মাধ্যমে সরকারি রেকর্ডে  পূর্ববর্তী মালিকের নাম কর্তন করে আপনার নিজের নাম লেখা হবে । 

চতুর্থত ভূমি উন্নয়ন কর :  আপনার নিজ নামে নাম জারি করার পর সরকারি বালামে  নিজের নামে ভূমি উন্নয়ন কর দিতে পারবেন । 

বাস্তব উদাহরণ  : আমি রামপাল উপজেলার দক্ষিণবেতকাটা   গ্রামের বাসিন্দা মৃত :  আয়েশা বেগম   নামের এক মহিলার সম্পত্তি বন্টন করতে গিয়ে দেখি আয়েশা বেগমের মৃত্যু আনতে ৯০  শতক জমিয়ে রেখে যান  , তাহাতে আয়েশা বেগমের ওয়ারিশ থাকে এক পুত্র ,  এক পূর্ব-মৃত পুত্রের পুত্র ,  দুই কন্যা।   উক্ত সম্পত্তি হইতে ওয়ারিশগণ কে কতটুকু সম্পত্তি পাইবে  ? 

এক পুত্র পাইবে  ৩০  শতক । 

এক পূর্বমৃত পুত্রের পুত্র পাইবে ৩০ শতক ( ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী পাইবে )  । 

এক কন্যা পাইবে ১৫ শতক  ( একত্রে দুই কন্যা পাইবে ৩০  শতক ) । 

Post a Comment

Previous Post Next Post